ইরানে সামরিক অভিযান আপাতত বিরতিতে থাকলেও তা শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শনিবারপাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈঠকের সময় এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
হিব্রু ভাষায় দেওয়া ওই বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এখনও শেষ হয়নি এবং সামনে আরও কাজ বাকি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে, তা “ঐতিহাসিক” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় তিনি অভিযানের কারণ ব্যাখ্যা করে দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তার ভাষায়, একবার এই সক্ষমতা অর্জিত হলে তা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াত।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক প্রকল্পকে ভূগর্ভে গভীরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে তা বাইরের হামলার নাগালের বাইরে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল নীরব থাকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা চলছে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয় এবং ১১ এপ্রিল আবারও আলোচনায় বসে দুই দেশ। তবে সেই বৈঠকও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে আরও বলেন, ইরানে এখনও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ইরানকে হয় আলোচনার মাধ্যমে এই উপাদান সরাতে হবে, নয়তো অন্য উপায়ে তা অপসারণ করা হবে।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি
