ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব উঠেছে

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে এবং সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে আবারও একটি প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নিয়েছে ডেমোক্র্যাট দল। 

সিনেটের মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার ঘোষণা করেছেন, তারা ট্রাম্পের ‘লাগামহীন’ যুদ্ধংদেহী মনোভাব রুখতে ভোটাভুটির আয়োজন করবেন। ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি হবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আনা চতুর্থ পর্যায়ের প্রচেষ্টা। 

শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, রিপাবলিকানরা এবার চতুর্থবারের মতো এই যুদ্ধ শেষ করার সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন বা যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের চেষ্টা চালিয়ে এলেও বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্টকে যেকোনো সামরিক অভিযান শুরুর আগে কংগ্রেসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে বাধ্য করা। 

তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগগুলোকে বারবার আটকে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তাকে সংকটে ফেলছে, তাই আইনি প্রক্রিয়ায় তার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।

সিনেটর চাক শুমার ট্রাম্পের পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-কে তীব্র কটাক্ষ করে ‘অপারেশন এপিক ফেইল’ বা মহাব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, এই অভিযানের ফলে হরমুজ প্রণালিতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

শুমারের মতে, এত ধ্বংসযজ্ঞের পরেও ইরান সরকার ‘এখনো টিকে আছে’ এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আগের মতোই ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে। অর্থাৎ বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বর্তমান এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও যুদ্ধের ব্যয় ও তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাটরা এই জনরোষকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকান সিনেটরদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যাতে তারা জাতীয় স্বার্থে প্রেসিডেন্টকে সমর্থনের বদলে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাবে ভোট দেন। 

যদিও রিপাবলিকান শিবিরের বড় অংশ এখনো ট্রাম্পের প্রতি অনুগত, তবুও এই ভোটাভুটি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যখন একটি অনির্দিষ্ট পরিণতির দিকে যাচ্ছে, তখন কংগ্রেসের এই সম্ভাব্য অধিবেশন আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ