ধামইরহাটে পারিবারিক দ্বন্দ্বে স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, পাল্টা দাবি শ্বশুরপক্ষেরও

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৩

নওগাঁর ধামইরহাটে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক কলেজশিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী পিপাসা মাহাতো (২৮) ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত স্বামী।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতের দিকে পৌরসভার দক্ষিণ চকযদু এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহত সত্যেন্দ্রনাথ মাহাতো স্থানীয় জগদল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের (বিএম শাখা) প্রভাষক।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে তিনি বাদী হয়ে তার স্ত্রী পিপাসা মাহাতো, শ্বশুর খোকা মাহাতোসহ অজ্ঞাত আরও সাতজনের বিরুদ্ধে ধামইরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বাড়ি উপজেলার মঙ্গলবাড়ী মুকুন্দপুর এলাকায়।

অভিযোগে সত্যেন্দ্রনাথ জানান, তার স্ত্রী প্রায়ই বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত বিরোধ হতো। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে তার বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করেন। দরজা খোলার পর তারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আক্রমণ করে।

আহত সত্যেন্দ্রনাথ মাহাতোকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

এতে তিনি মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত পান। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্বশুর খোকা মাহাতো। তার দাবি, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও জামাই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি এবং তাকে মারধর করতেন। এ বিষয়ে পূর্বে কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে মেয়েকে মারধরের খবর পেয়ে তিনি ছেলেকে নিয়ে জামাইয়ের বাড়িতে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং দরজার আঘাতেই সত্যেন্দ্রনাথ আহত হন।

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ কাজ করছে।

 

ইত্তেফাক/এমএএম