সীমিত উৎপাদনে চলছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, দাবি সরকারের

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৯

কাঁচামালের অভাবে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসলেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বরং লো-ফিড বা সীমিত উৎপাদনে সচল রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ২০২৬-এর নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালান সময়মতো পৌঁছাতে না পাড়ায় ইআরএলকে সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি নিশ্চিত করছে এবং বিকল্প উৎস থেকেও সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাতে সরবরাহে কোনো ঘাটতি না হয়।

তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েল স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে বিধায় লো-ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও এর কোনো বিরূপ প্রভাব সরবরাহ চ্যানেলে পড়বে না। এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

মনির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, দেশের মূল জ্বালানি তেল ডিজেলের মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পেট্রলের ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হলেও সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করে একদিকে ইআরএল থেকে প্রাপ্ত তেলের ঘাটতি যথাযথভাবে পূরণ করছে এবং অন্যদিকে সীমিত পর্যায়ে ইআরএলের উৎপাদনও অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে এই শোধনাগারের চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি সচল আছে এবং বাকি দুটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বন্ধ রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ইআরএল মূলত সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড আমদানি করে পরিশোধন করে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।

যুগ্মসচিব আরও জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের দেশের ডিজেলের চাহিদা ছিল ৪৭ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন, যার বিপরীতে ইআরএল থেকে পাওয়া গেছে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন (১৫.৪৪ শতাংশ)। পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল ৪ লাখ ৮৯ হাজার টন। সেখানে ইআরএলের জোগান ৫৮ হাজার ৩০৯ টন বা ১১.৯২ শতাংশ। অকটেনের চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, যার পুরোটাই আমদানি করা হয়েছে। এর বাইরে ফার্নেস তেল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপজাত হিসেবে ইআরএল থেকে পাওয়া যায়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মার্চ ও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত ৩ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির যে শিডিউল সে অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আনা সম্ভব হয়নি। মার্চ মাসের প্রথম পার্সেলের ১ লাখ মেট্রিক টনের কার্গো লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি এবং বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে এপ্রিল মাসের নির্ধারিত ১ লাখ মেট্রিক টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েলের কার্গো ২০ এপ্রিল লোডিং সম্পন্ন করে ২-৩ মে’র মধ্যে বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। 

মে মাসে ১টি (১ লাখ টন) মারবান কার্গোর পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ১টি (১ লাখ টন) এএলসি কার্গোর জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ করা হয়েছে। যা সরবরাহকারীর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ ছাড়া, জরুরি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/এমএসআর