আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: ‘আগেই শ্বাসরোধে মারা যায় অন্তত ৩০ জন’

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২

আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের এক জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীর বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। ‘চার দিন চার রাত ধরে সাগরে...আমাদের ঢুকিয়ে রেখেছিল স্টোর রুমে। সেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো বাতাস ছিল না। ট্রলার ডোবার আগেই অন্তত ৩০ জন শ্বাসরোধে মারা যায়।’

সম্প্রতি বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে রফিকুলের ভয়ঙ্কর সমুদ্রযাত্রার কথা।

রফিকুল জানান, ৪ এপ্রিল ছোট একটি মাছধরা নৌকায় তাদের যাত্রা শুরু হয়। নারী, শিশু, নাবিক ও পাচারকারীসহ প্রায় ৩০০ জনকে একটি ছোট মাছ ধরার নৌকায় গাদাগাদি করে তোলা হয়। পরে মিয়ানমারের কাছাকাছি সাগরে গিয়ে তাদের বড় একটি ট্রলারে স্থানান্তর করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, টহল এড়াতে পাচারকারীরা যাত্রীদের মাছ ও জাল রাখার সংকীর্ণ স্টোর রুমে আটকে রাখে, যেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত বাতাস ছিল না। তিনি বলেন, ‘চার দিন চার রাত ধরে সাগরে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয়েছে আমাদের। টহল এড়াতে পাচারকারীরা আমাদের মাছ ও জাল রাখার স্টোর রুমেও ঢুকিয়ে রাখে। সেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো বাতাস ছিল না।’

পরে উত্তাল সাগরে ট্রলারটি উল্টে গেলে অধিকাংশ যাত্রী পানিতে পড়ে যায়। রফিকুলের দাবি, তখন ট্রলারে প্রায় ২৪০ জন ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

তিনি আরও জানান, পরে একটি বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজ সাগরে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। এখনো প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবিকার সংকট তাদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর আশায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।

বর্তমানে কক্সবাজার এলাকায় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে, যাদের অধিকাংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

কক্সবাজারে ৫০০ পরিবারের ওপর ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২ শতাংশ রোহিঙ্গা অভিভাবক তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ৮৪ শতাংশ। খাদ্য সহায়তা কমে গিয়ে মাথাপিছু মাসে মাত্র ৭ ডলারে নেমে আসায় বহু পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। প্রায় ৬৯ শতাংশ পরিবারের শিশুরা স্কুল ছেড়ে দিয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়া, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবসহ নানা সংকটে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জরুরি সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ইত্তেফাক/এসজেএস