কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বনবিটে ছড়াখালের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পয়েন্টে সৃষ্ট গর্তে আটকা পড়ে শামসুল আলম (৫০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল দশটার দিকে বালু উত্তোলন গর্তে আটকা পড়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত শামসুল আলম (৫০) চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুনবাগিচা এলাকার সাবেক হেডম্যান মৃত অলি আহমদের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় একটি বালু উত্তোলন পয়েন্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বনবিভাগের খুটাখালী বনবিটের অধীন ফান্ডাছড়ি ও মুচ্ছিকাটা এলাকার ছড়াখাল থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন ওই এলাকার ফারুক, টুনু ও সৈয়দের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ছড়াখালের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে সেখানে বালু উত্তোলন কাজ করতে গিয়ে আগে থেকে সৃষ্ট গর্তে আটকে পড়ে শ্রমিক শামসুল আলম। একপর্যায়ে তার সহকর্মীরা তাকে গর্ত থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় দিন গড়িয়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে চকরিয়া থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাস্থলে ফুলছড়ি বনবিট এলাকার কবির হোসেনের অবৈধ আরও একটি বালু মহাল রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ বালু উত্তোলন পয়েন্ট থেকে ফুলছড়ি রেঞ্জের বিভিন্ন বনবিটের লোকজন মাসোয়ারা নেন। সেকারণে লুটেরা চক্র দীর্ঘদিন ধরে সেখান থেকে বিনা বাধায় বালু উত্তোলন করে আসছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ওই এলাকার সরকারি বনাঞ্চল ধ্বংস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
বনবিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অভিযানে আসার আগে স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তথ্য ফাঁস করে সর্তক করেন দেন বলে গুরুতর অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
খুটাখালী বনবিটের ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহ জানান, ‘রাতের আধারে ফান্ডাছড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। সেই বালু উত্তোলন গর্তে আটকা পড়ে শামসু নামের একজন মারা গেছে শুনেছি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বনবিট কর্মকর্তা ওই পয়েন্টের বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালিয়ে মামলাও দিয়েছেন। তবুও বালু উত্তোলন থামেনি।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘বালু পয়েন্টে শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত-পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
