মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নাঈম হোসেন নামে এক যুবকের বাবা-চাচাসহ তিনজনকে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা। এতে ওই যুবকের বাবা অটোচালক পান্নু মিয়া (৩৫) ও চাচা ফজলু (২৮) নিহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল এলাকার দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এলাকায় মাইকিং করে খোঁজ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার নিথর দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলের আশেপাশে নাঈম হোসেনকে সন্দেহজনক ভাবে ঘুরা-ফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা তাকে আটক করে।
পরে নাঈমকে ছাড়িয়ে নিতে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গ্রামবাসীর সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে নাঈম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার পিতা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলু মিয়া (ফারুক) গণপিটুনির শিকার হন। এ সময় গুরুতর আহত হন তার ভাই নাজমুল হোসেন।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন এবং সদর থানার ওসি মোঃ ইকরাম হোসেনস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মানিকগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন বলেন, ‘শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে গণধোলাইয়ের ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
