ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংঘর্ষ

পুলিশের হেফাজতে থাকা শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত, ছাত্রদলের দুই সদস্য বহিষ্কার

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১০

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর বিরোধের জেরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় এমবিবিএস-৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজকে পুলিশ আটক করার পর হেফাজতেই তার ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা করা হয়। এতে গুরুতর আহত হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হোস্টেল থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীর বড় ভাই আহমদ শফি ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদলের দুজনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস-৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর হামিদুর রহমানের সঙ্গে পেট্রলপাম্প থেকে তেল আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. আমানুল্লাহ মুয়াজের বিরোধের সূত্রপাত। এর জেরে আসামিরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রাবাসে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে গত শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বাঘমারা এলাকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হোস্টেল থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের সামনে আমানুল্লাহ মুয়াজের ওপর হামলা করা হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, নাফিউল ইসলাম হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমানুল্লাহর মাথায় আঘাত করেন। পরে সহপাঠী, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা ও পোশাকধারী কয়েকজন পুলিশ সদস্য মুয়াজকে নিয়ে ছাত্রাবাস থেকে বের হচ্ছেন। প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছানোর সময় হঠাৎ তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে একজন হামলা চালায়।

হামলার ঘটনায় নাফিউল ইসলামকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম। 

ঘটনা প্রসঙ্গে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পুলিশ নিয়ে আসার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ আক্রমণ ঘটে। তাদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের দায় আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/আরএইচ