কক্সবাজারের পেকুয়ায় পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সনালীবজার স্লুইসগেট ভেঙে লোকালয় ও লবণের মাঠে লোনা পানি ঢুকে পড়েছে। এতে মুহূর্তেই তলিয়ে গেছে কয়েকশ একর ফসলি জমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পায়। পানির প্রবল চাপে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজার সংলগ্ন একটি জরাজীর্ণ স্লুইসগেট ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করে। চাষিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাঠের স্তূপ করা লবণ এবং উৎপাদনের অপেক্ষায় থাকা ‘বেড’গুলো তলিয়ে যায়। এতে অন্তত ৫০০ বড় বিনিয়োগকারীসহ কয়েক হাজার প্রান্তিক চাষি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাঠেই পড়ে ছিল বিক্রির জন্য প্রস্তুত শত শত মণ লবণ, যা এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় চাষি হারুন, নন্না মিয়া, শফিউল করিম, কালু, গিয়াস উদ্দিনসহ ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই জানান, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা এবার মাঠে নেমেছিলেন। লবণের বাজারদর ভালো থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু মুহূর্তের এই দুর্যোগে সেই আশা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তোলিত লবণের স্তূপ জোয়ারের তোড়ে গলে গেছে এবং মাঠ প্লাবিত হওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্লুইসগেইটটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকলেও সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ চাষিদের।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, জোয়ারের তোড়ে স্লুইসগেট ভেঙে চাষিদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা আমি নিজে সরজমিনে দেখে এসেছি। এটি এলাকার অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। দ্রুততম সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা চলছে।
পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, স্লুইসগেটটির একাংশ ধসে পড়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে, তারা সংস্কার কাজ শুরু করছে।

