মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লুক্সেমবার্গে আয়োজিত এক বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন ইইউর সদস্য দেশগুলো।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা হরমুজ প্রণালি অবরোধের সঙ্গে যুক্ত থাকবে বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সহায়তা করবে, তারা সরাসরি ইইউর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা লোহিত সাগরে পরিচালিত ইইউর নৌ মিশনকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বর্তমানে এই নৌ মিশনটি ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে ইইউ এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ বিশ্বের তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অবরোধ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর এই পদক্ষেপ কেবল ইরানের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নয়, বরং এটি বিশ্ববাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নৌপথকে সুরক্ষিত রাখার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। একদিকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার জাল বিস্তার করা এবং অন্যদিকে নৌ উপস্থিতি জোরদার করার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব থেকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে চাইছে।
