মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে চলমান অচলাবস্থা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি আমদানিতে চাপের মুখে পড়ছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কার্যকর শান্তি প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত চাপ অব্যাহত থাকবে।
সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এতে শুধু জ্বালানি খাতই নয়, বৈশ্বিক পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

