রাঙ্গামাটিতে লোডশেডিং চরমে, গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫

গত এক সপ্তাহ ধরে রাঙ্গামাটিতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। ব্যাহত হচ্ছে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। দিন-রাতের লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না, ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. নকিব হাসান বলেন, এ ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমাদের পড়াশোনা করতে চরম কষ্ট হচ্ছে। একদিকে গরম, অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিং সব মিলিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে।

আরেক পরীক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান বলেন, পরীক্ষার সময় এভাবে লোডশেডিং আমাদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

গরমে অতিষ্ঠ ঠেলাগাড়ি চালক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, দিনের বেলায় তীব্র গরমের কারণে কাজ করতে পারি না। ফলে দিনের অর্ধেক সময় বেকার থাকতে হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছি।

রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক বলেন, সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষা চলছে, এর মধ্যে তীব্র গরমও পড়ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এদিকে, চলমান তীব্র গরমে কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সচল রয়েছে মাত্র একটি ইউনিট, যেখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, পানি কমে যাওয়ার কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদন তলানিতে এসে ঠেকেছে। বৃষ্টি শুরু হলে হ্রদের পানি বাড়লে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ২৩ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছেন।

রাঙ্গামাটি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ইত্তেফাক/এএইচপি