যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশা খুব কমই আছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনার পর দেওয়া এই মন্তব্য আবারও সামনে এনেছে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির ইতিহাস।
সাম্প্রতিক ঘটনা:
এপ্রিল ২০২৬: ওয়াশিংটন
ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। মুহূর্তেই নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেপ্টেম্বর ২০২৪: ফ্লোরিডায় গলফ ক্লাবে হামলার চেষ্টা
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে নিজের গলফ রিসোর্টে থাকা অবস্থায় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে এফবিআই। ঝোপের আড়ালে অস্ত্র নিয়ে লুকিয়ে থাকা এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।
জুলাই ২০২৪: নির্বাচনী সমাবেশে গুলিবর্ষণ
পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশ চলাকালে মঞ্চ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে ট্রাম্প আহত হন এবং তার কান থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়।
নভেম্বর ২০১৬: নেভাদা
২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প নেভাদা অঙ্গরাজ্যের রেনো এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। হঠাৎ ভিড়ের মধ্য থেকে একজন ‘বন্দুক’ বলে চিৎকার করেন। দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনা হয় ট্রাম্পকে।
পরে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে, ওই ব্যক্তি নিরস্ত্র ছিলেন। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
জুন ২০১৬: লাস ভেগাস
প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রচারে তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছিলেন ট্রাম্প। তখন লাস ভেগাসে ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ১৮ জুন সেখানে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের বক্তব্যের মাঝে একজন ব্রিটিশ ব্যক্তি সেখানকার এক পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরে স্বীকার করেছেন, তার উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পকে হত্যা করা। ঘটনাস্থলেই নিবৃত্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। কারাদণ্ড ভোগের পর তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।
মার্চ ২০১৬: ওহাইও
২০১৬ সালের ১২ মার্চ ওহাইওর ডেটনে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন ট্রাম্প । হঠাৎ এক ব্যক্তি মঞ্চের দিকে ছুটে গেলে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা তাকে ধরে ফেলে।
যদিও ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। এর পরও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ ঘটনাকে ‘গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করেছিল। পরে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত হন।
সূত্র: রয়টার্স, ইউএসএ টুডে
