জুবিন গার্গের মৃত্যুর তদন্তে আর্থিক অনিয়মের ছায়া, কাঠগড়ায় গায়কের ম্যানেজার

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ১০:৫৪

একটি মৃত্যু, আর তার পর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকা একাধিক স্তরের আর্থিক প্রশ্ন। ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গকে ঘিরে চলমান তদন্ত এখন শুধু মৃত্যুর কারণেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ঘুরে ফিরে আসছে অর্থনৈতিক লেনদেন ও সন্দেহজনক বিনিয়োগের দিকেও।

সর্বশেষ গুয়াহাটির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট জুবিনের সাবেক ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আদালত তার মালিকানাধীন ‘মহাবীর অ্যাকুয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তার নিয়ন্ত্রণাধীন ছয়টি ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দাবি করা হয়েছে, সিদ্ধার্থ শর্মা বিপুল অর্থের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আয়কর রিটার্নসহ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক দলিলও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালত ৪৯ পৃষ্ঠার চার্জশিট গ্রহণ করার পর বিষয়টি আরও গভীরভাবে সামনে আসে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জুবিন গার্গের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ১.১০ কোটি রুপি ‘মহাবীর অ্যাকুয়া’তে বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তবে সেই অর্থের বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাৎ, তহবিল স্থানান্তর এবং কালো টাকা সাদা করার মতো আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন সিঙ্গাপুরে একটি নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে গিয়ে হঠাৎ মারা যান জুবিন গার্গ। ৫২ বছর বয়সী এই শিল্পীর মৃত্যু শুধু ভারতীয় সংগীতাঙ্গনেই নয়, সাধারণ ভক্তদের মাঝেও গভীর শোকের ছায়া ফেলে।

এরপর হিমন্ত বিশ্বশর্মা-এর নির্দেশে আসাম সরকার বিশেষ তদন্ত দল সিআইটি গঠন করে। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসতে থাকে জুবিনের ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন, যার মধ্যে তার ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার নামও যুক্ত হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের আয়-ব্যয়ের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং উপস্থাপিত নথিগুলো আর্থিক অনিয়মের সন্দেহ আরও জোরালো করে তুলেছে। তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাকি।

সব মিলিয়ে, এক সময়ের জনপ্রিয় সংগীত তারকার জীবনাবসানের পর তার ঘনিষ্ঠ মহলকে ঘিরে যে আর্থিক জটিলতার গল্প সামনে আসছে, তা এখন বিচার ও তদন্তের কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস