বানারীপাড়ায় গণধর্ষণের শিকার কিশোরী, ধর্ষক গ্রেফতার

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৪৫

বানারীপাড়ায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী লেগুনাযাত্রী। রাতভর ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর স্থানীয় জনগণের সাহায্য নিয়ে ওই কিশোরী ধর্ষকদের আটক করে। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় জনতা ধর্ষক লেগুনা চালক রাজ্জাককে (৩৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। রাজ্জাক বানারীপাড়া উপজেলার মলুহার গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে। ধর্ষণের শিকার কিশোরী নাজিরপুর উপজেলার এক প্রতিবন্ধীর মেয়ে।

ঘটনার শিকার কিশোরী (১৫) জানায় সে পয়সারহাটের খালা বাড়িতে দুদিন বেড়ানো শেষে তার নিজের বাড়ি গাঁওখালী ফিরছিলো। এজন্য সে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশারকান্দি আসে। উদ্দেশ্য, বিশারকান্দি-শিয়ালকাঠি সড়কের নাজিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বৈঠাকাটা খেয়া ঘাটে যাবে। তার কাছে গাড়ি ভাড়া না থাকায় সে বিশারকান্দি লেগুনা স্ট্যান্ডে চালক রাজ্জাককে মামা ডেকে তার কাছে ভাড়া না থাকার বিষয়টি জানায়।

রাজ্জাক সুযোগ বুঝে বিনা ভাড়ায় তাকে বৈঠাঘাটা তালুকদার উলা খেয়াঘাটে নামিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার লেগুনা গাড়িতে তুলে। লেগুনা চালক রাজ্জাক কিশোরীকে গন্তব্যে না নামিয়ে পার্শ্ববর্তী বানারীপাড়ার ইলুহার ইউনিয়নের জনতা বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে তার চাচাতো ভাই রশিদের বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে রাত ১০টার দিকে জনতা বাজার থেকে অপর লেগুনা গাড়ির চালক মাসুমের গাড়িতে তাকে তুলে দেয় রাজ্জাক। 

এরপর গাড়ি চালক মাসুম ওই কিশোরীকে বৈঠাঘাটা খেয়াঘাটে না নামিয়ে বিশারকান্দি লেগুনা স্ট্যান্ডের একটি কক্ষে নিয়ে এক সহযোগীসহ রাতভর ধর্ষণ করে। ভোররাতে মাসুম গণধর্ষিতা ওই কিশোরীকে বৈঠাঘাটা খেয়াঘাটে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। ওই কিশোরী খেয়াঘাটে নেমে স্থানীয় লোকজনকে গণধর্ষণের বিষয়টি জানায়।

বুধবার ভোরে ওই কিশোরীর প্রথম ধর্ষক রাজ্জাক ওই স্থান থেকে যাত্রীসহ গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। তারপর তারা পুলিশকে খবর দেয়।

ঘটনা জানতে পের বানারীপাড়া থানার ওসি লবনসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক সুজিত কুমার বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ধর্ষক রাজ্জাক ও ধর্ষিতা কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসেন। 

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

এ প্রসঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খলিলুর রহমান জানান, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে লেগুনা চালক লম্পট রাজ্জাক ওই কিশোরীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার শিকার ওই কিশোরীর বাড়িতে লোক পাঠানো হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত লেগুনা চালক মাসুমসহ অপর অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু