শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো-পাহাড়ি এলাকার বন্যহাতির আতঙ্কে কৃষকেরা এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। ওই এলাকায় পাহাড় থেকে বন্যহাতি নেমে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় আধাপাকা ধান কেটে ফেলছে কৃষক। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া, নয়াবিল ও পোড়াগাঁও এই ৩টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাজুড়ে অন্যান্য বছরের মতো এবারও বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এখন বোরোধান পাকতে শুরু করেছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় ভালোভাবে ধান পাকেনি। কিন্তু বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে এসব ক্ষেতে হানা দিচ্ছে।
মূলত বোরোধান লাগানোর পর থেকেই হাতির পাল কয়েক দফায় তাণ্ডব চালিয়েছে। হাতি ধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছে। প্রায় প্রতিদিনই বিকেলে বা সন্ধ্যায় খাবারের সন্ধানে গহীন অরণ্য থেকে দলবেঁধে হাতি নেমে আসছে।
উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের গারো আদিবাসী কৃষক মেজেস সাংমা বলেন, প্রায়ই বন্যহাতি বোরোধান খেতে হামলা করছে। ফসল বাঁচাতে আমরা ক্ষেতের পাশে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহারা দিচ্ছি। ডাক চিৎকার, টিন পিটিয়ে শব্দ করে আবার কখনও মশাল জ্বালিয়ে থাকি। কিন্তু বর্তমানে কেরোসিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় ও দাম বেশি হওয়ায় হাতি তাড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বন বিভাগ থেকে ফসলের ক্ষতিপূরণ দিলেও তা সবাই পায় না।
দাওধারা গ্রামের কৃষক মো. হালিম উদ্দিন বলেন, বন্যহাতি যা ক্ষতি করে সরকার তার চারভাগের একভাগও ক্ষতিপূরণ দেয় না। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষক ক্ষতিপূরণ পায়। তাও আবার দীর্ঘদিন পরে।
ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। এতে কৃষকের বেশ আর্থিক সহযোগিতা হচ্ছে। একইসঙ্গে বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে সহাবস্থানের জন্য আমরা এলাকার মানুষদেরকে সচেতন করছি। কৃষক যেন সহজে তাদের ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণ গেলো মা ও শিশুকন্যার