স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, নৈশপ্রহরীকে অপহরণ করে হত্যা

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৭

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দোকানের শাটারের তালা ভেঙে সিন্দুক লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশপ্রহরী ফরিদ (৪৪)-এর রক্তাক্ত মরদেহ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় ফরিদকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ হাজীগঞ্জ এলাকায় ফেলে রাখা হয়।

শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় ‘নিউ আপন শিল্পালয়’ নামের স্বর্ণের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে হাত-পা ও মুখ কস্টেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ফরিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ফরিদ রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর এলাকার মিজি বাড়ির মো. শাহাজাহানের ছেলে। তিনি রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রামগঞ্জ পুলিশ বক্স থেকে পাটবাজার পর্যন্ত ছিল তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা।

বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয়রা জানান, এটি সাধারণ চুরি নয়, বরং সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা। একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে দুর্বৃত্তরা আসে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় ফরিদকে তুলে নিয়ে যায় তারা। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ হাজীগঞ্জ সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রূপন শীল বলেন, আমি ছোট ব্যবসা করে কোনোভাবে পরিবার চালাই। আমার দোকানের শাটারের তালা ভেঙে সিন্দুক নিয়ে গেছে। স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ সবকিছু লুট করা হয়েছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি।

চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক ইমারত হোসেন জানান, সকালে অজ্ঞাত পরিচয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। নিহতের হাত-পা ও মুখ কস্টেপ দিয়ে বাঁধা ছিল।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডাকাতির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কত টাকার মালামাল লুট হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, হাজীগঞ্জে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে জানা গেছে। সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি