নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ফি কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ২০:২১

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নীতিমালায় সঞ্চালন ফিসহ অন্যান্য চার্জ সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হলে শিল্পখাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হবে।

সরকার সম্প্রতি বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ রেখে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট পলিসি চালু করেছে। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কিনে বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করে। নতুন নীতিমালার আওতায় বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। তারা শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করবে।

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের বিদেশি ক্রেতারা এখন পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে কারখানাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা না পেলে অনেক কারখানা সংকটে পড়বে। সেবার চার্জ বৃদ্ধি বা ভর্তুকির চাপ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্য অর্জনে মার্চেন্ট পলিসি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এজন্য জাতীয় গ্রিড ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট সেবা চার্জ যৌক্তিক রাখতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হলে সেবা ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, নীতিমালাটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপও কমবে।

ইত্তেফাক/এমএএম