ভালোবাসার বিচ্ছেদ মানতে নারাজ প্রেমিক যুগল, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ১৮:৫৩

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়েছিলেন এক প্রেমিক যুগল। স্বপ্ন ছিল একসঙ্গে বাধবেন নতুন জীবন। কিন্তু সেই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রেমিকের মা। ছেলের বিরুদ্ধে করেন অপহরণ মামলা। 

এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে আয়োজন করা হয় আপোষ মীমাংসার। কিন্তু সেখানে হৃদয় ভা‌ঙে প্রেমিক যুগলের। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এই সম্পর্কের পূর্ণতা মিলবে না, ঘটাতে হবে বহু আকাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার বিচ্ছেদ। অথচ কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি নন। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় সেখানেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। 

সেই আবেগঘন মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পগে। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি।  ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে।

প্রেমিক কবির হোসেন (১৯) একই উপ‌জেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে। প্রেমিকা রৌমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল কবির হোসেন তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাদের সন্ধানে ব‌্যর্থ হন। প‌রে তরুণীর মা গত ৩ মে রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তরুণীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় তারা একে অপরকে ছাড়তে না চাওয়ায় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। উপস্থিত কেউ ওই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে শুক্রবার (৮মে) তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলে-মেয়ে প্রেম করে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমার এখানে বৈঠক হয়। কিন্তু ছেলে-মেয়ে কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে কিছুটা ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

রৌমারী থানা ওসি কাওসার আলী বলেন, শুক্রবার রা‌তে ছে‌লে-মে‌য়েকে রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদ থে‌কে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণ মামলায় ‌মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এমএসআর