দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর মহাসড়কের বিশাল অংশ এখন কৃষকদের ধান ও ভুট্টা মাড়াইয়ের চাতালে পরিণত হয়েছে। পুরো মহাসড়কজুড়ে খড় ও ভুট্টা শুকানোর হিড়িক চলায় যানচলাচল হয়ে পড়েছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে গত এক সপ্তাহে অন্তত নয়টি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে খড়ের পালা দেওয়া হয়েছে। দলদলিয়া ডাঙ্গাপাড়া, মহেষপুর, তেঁতুলিয়া, চিলাপাড়া, ভাগলপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কৃষকেরা মহাসড়কের ওপরই যান্ত্রিক মেশিন দিয়ে ধান ও ভুট্টা মাড়াই করছেন। মাড়াই শেষে খড় ও ধান সড়কেই শুকানো হচ্ছে, যার ফলে মূল সড়ক সংকুচিত হয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর মে-জুন মৌসুমে এই মহাসড়কটি কৃষকদের দখলে চলে যায়। গত বছর এই সময়ে এই ১৫ কিলোমিটার এলাকায় দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি মাসেও দুর্ঘটনার ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত ৭ মে মহেষপুর চৌরাস্তা মোড়ে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ এবং ৯ মে আয়শার মোড় এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শরিফুল ইসলাম নামে এক চালকের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি সড়কে ভুট্টা শুকানোর সময় নছিমনের ধাক্কায় এক শিশুরও প্রাণহানি ঘটেছে।
জিয়ার মোড় এলাকার কৃষক নূরুল ইসলাম বলেন, বাড়ির সামনে এখন আর আগের মতো ফাঁকা জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কেই ধান শুকাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, আমরা কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। রাস্তা দখল করে পথচারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আমানউল্লাহ আমান জানান, বারংবার নিষেধ করা সত্ত্বেও কেউ তা মানছেন না। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আশ্বস্ত করেছেন যে, বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
