ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৬

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৮

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সকাল থেকে কিয়েভ, ওডেসা ও লভিভসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর জ্বালানি ও রেল যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাতভর এই তাণ্ডব চালায় রুশ বাহিনী। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রুশ ড্রোনের আঘাতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের এই আক্রমণ নির্দিষ্টভাবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।

রুশ হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে প্রতিবেশী ও ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড। বুধবার রাশিয়ার হামলা শুরুর পরপরই পোলিশ সামরিক বাহিনী তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা দিয়েছে, ড্রোনের পর এখন বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়ার নীল নকশা করছে মস্কো। 

এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড় ধরনের ড্রোন অভিযান চালিয়েছে এবং ওরেনবার্গের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানায় সফল হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে মস্কোর দাবি অনুযায়ী, তারা রাতভর বেলগোরোদ, ব্রিয়ানস্ক ও কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় ৩শ’ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

যুদ্ধের এই তীব্র উত্তেজনার মাঝে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ ও ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের গভর্নররা পদত্যাগ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেখানে নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিয়োগ দিয়েছেন। একই সময়ে ক্রেমলিন যুদ্ধবিরতির জন্য তাদের কঠোর শর্তের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আলোচনা শুরু করতে হলে ইউক্রেনকে অবশ্যই দনবাস অঞ্চল থেকে তাদের সমস্ত সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া মস্কো ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউক্রেন ইস্যুকে প্রাধান্য না দেয়, তবে ওয়াশিংটনের সাথে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রকল্পে অংশ নিতে রাশিয়ার আগ্রহ রয়েছে।

কূটনৈতিক টানাপড়েন ও সংঘাতের মাঝেই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মস্কোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন যে, বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোনো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম এমন শক্তিশালী মিসাইল সিস্টেম তৈরিতে রাশিয়া নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

পুতিনের এই বক্তব্য এবং ইউক্রেনীয় সীমান্তে রাশিয়ার ক্রমাগত হামলা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই যেমন সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও কেউ পিছু হটতে রাজি নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/টিএইচ