পাহাড়ে নিয়ে ২ স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ১২:১২

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপর এক ছাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার মৎস্য প্রজেক্টের শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার (১৩ মে) উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার ছাদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার ওসমানের ছেলে মো. ছৈয়দ (১৫), শাহ আলমের ছেলে মো. রাকিব (২০), মো. নাছিরের ছেলে মো. মানিক ইসলাম (২০), ও আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুর রহিম (১৮)।

জানা যায়, গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী এবং অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া অপর এক ছাত্রী মিলে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ছদাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুর পাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা ও ছদাহার পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় ঘুরতে যায়। 

সেখান থেকে তারা দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসার সময় মৎস্য প্রজেক্টের ৭ শ্রমিক মিলে ২ ছাত্রীকে জোরপূর্বক পাহাড়ে নিয়ে যায়। এরপর তারা নবম শ্রেণি পড়ুয়া ওই স্কুলছাত্রীকে পাহাড়ের গভীরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় অভিযুক্তরা অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন এবং পাহাড়ের অপর প্রান্তে জোরপূর্বক আটকে রাখে।

পরে ওই দুই স্কুল ছাত্রী বাড়িতে ফিরে আসার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ওই ৭ মৎস্য প্রজেক্টের শ্রমিককে খুঁজতে থাকেন। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ৭ জনকে এজাহারনামীয় করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, গ্রেপ্তাররা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ৩ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএসআর