১৪২ কোটির দেশেও বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন মোদি-ঘনিষ্ঠরা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১৮:১৩

ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। ১৪২ কোটি মানুষের এই দেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার আকাশছোঁয়া, তারপরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ মহলগুলো জন্মহারের পতন ঠেকাতে এখন দম্পতিদের আরও বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। সোমবার (১৮ মে)  ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস বলছে, আগামী চার দশকে ভারতের জনসংখ্যা আরও বেড়ে প্রায় ১৭০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মনে করছে, এখনই ছোট পরিবারের নীতি থেকে সরে এসে বড় পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে হবে। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া উচিত।

সরকারি তথ্য অনুসারে, ভারতের মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ১৯৯২-৯৩ সালে ৩.৪ থেকে নেমে ২০১৯-২১ সালে ২.০-তে দাঁড়িয়েছে। নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ায় এই পরিবর্তন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে ২.১ হার প্রয়োজন বলে বিবেচনা করা হয়।

অন্ধ্রপ্রদেশে আর্থিক প্রণোদনা

মোদি-সমর্থিত জোট সরকারের অধীনে থাকা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার সপ্তাহান্তে এক ঘোষণায় জানিয়েছে, তৃতীয় সন্তান জন্ম দিলে ৩০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার টাকা এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্য আগেই ২৫ হাজার টাকার প্রস্তাব ছিল, তবে প্রথম সন্তানের জন্য কোনো আর্থিক সুবিধা রাখা হয়নি। কবে থেকে এই প্রকল্প চালু হবে তা এখনো জানানো হয়নি।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশেই জন্মহার কমে যাওয়ায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে। আগে আমরা পরিবার পরিকল্পনায় জোর দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সন্তানকে সম্পদ হিসেবে দেখার সময় এসেছে।”

সিকিমও একই পথে

উত্তর-পূর্বের ছোট রাজ্য সিকিমও পরিবারগুলোকে আরও সন্তান নিতে উৎসাহিত করছে। এর জন্য এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং আইভিএফ (টেস্ট টিউব বেবি) চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

আরএসএসের আহ্বান

মোদির দল বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)ও বড় পরিবার গঠনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত সপ্তাহে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে বলেন, 'আমরা বলি ভারত তরুণদের দেশ। কিন্তু জন্মহার ক্রমাগত কমছে। এতে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।' 

প্রসঙ্গত, সরকারি তথ্য বলছে ২০২৫ সালে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের মধ্যে সার্বিক বেকারত্বের হার ৩.১ শতাংশ হলেও, ১৫-২৯ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে এই হার ৯.৯ শতাংশ। শহরে এই হার ১৩.৬ শতাংশ এবং গ্রামে ৮.৩ শতাংশ।

বিশ্বের অনেক দেশই (চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ) একসময় জন্মহার কমানোর নীতি নিয়েছিল, পরে আবার তা বাড়ানোর জন্য নীতি বদলাতে বাধ্য হয়েছে। ভারতেও এখন সেই দিকেই ঝোঁক দেখা যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এবিএস