চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্তকে সরিয়ে নেওয়া হলো ডিবি কার্যালয়ে

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৯:১৮

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যোগ দেয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশি হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ডিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) এমদাদুল হক জানান, নগরে র‍্যাবের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এবং বাকলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির খবর পেয়ে তাদের একটি পেট্রোল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‍্যাব সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারম্যানঘাটার ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবনের সিঁড়িঘরে তিন বছরের এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই খবর মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত ক্ষুব্ধ বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসেন এবং অভিযুক্তকে আটকে ভবনটি ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় আটককৃত ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে সেখানে উপস্থিত জনতার মধ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত ৮টার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালানো হয়। এর জবাবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও পুলিশকে লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুরো এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ইত্তেফাক/এনএন