আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫০

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বহির্গমন পয়েন্ট আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বাস সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিনিয়ত এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে একের পর এক দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। ফলে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত যাত্রীরা। কোথাও কোথাও কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দীর্ঘ অবস্থান। প্রতিটি কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন কাউন্টার মাস্টাররা। যাত্রী ডাকতে হাঁকডাকে সরগরম পুরো টার্মিনাল এলাকা। কাউন্টারগুলোর সামনে পরিবহন এসে দাঁড়াতেই নির্ধারিত গাড়িতে উঠতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন যাত্রীরা।

আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ হওয়ার কারণে প্রায়ই ধীরগতি ও তীব্র যানজট তৈরি হয়।

আব্দুল্লাহপুর থেকে উত্তরবঙ্গগামী আহনাফ পরিবহনের মমিন হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, আমার দুটো টিকিট ১৯০০ টাকা নিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই টিকিটের দাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা সর্বোচ্চ। এখন ১৯০০ টাকা নিয়েছে। টিকিট কেটেছি ৫ দিন আগে। গাড়ি ছাড়ার কথা রাত সাড়ে ১০টায়। কিন্তু সাড়ে ১০টা বেজে গেছে এখনো গাড়ির খবর নেই।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটা গাড়ি এক ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা লেট করছে। সব কাউন্টারেই বলছে গাড়ি আসতে এক ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টা লেট হবে। কাউন্টার ম্যানেজমেন্টের লোকজন একটুও সতর্ক না।

নাটোরগামী একতা পরিবহনের অপর এক যাত্রী বলেন, টিকিটের মূল্য নিয়েছে এক হাজার টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই টিকিটের দাম ৬০০ টাকা। গাড়ির জন্য প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবত অপেক্ষা করছি। এখনো গাড়ি আসেনি। প্রতিবার ঈদ আসলেই এভাবেই বাড়ি যাই।

একতা পরিবহনের ম্যানেজার দুলাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকায় কিছু যানজট থাকার কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি না। তবে অনেকেই খুশি হয়ে ৫০ টাকা ১০০ টাকা দেয়।

ইত্তেফাক/এমএস