হামলা ও বিধিনিষেধের মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের ঈদুল আজহা উদযাপন

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ১৮:০১

ইসরায়েলের অবিরাম বোমা বর্ষণ ও বিমান হামলার মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা। অন্যদিকে, কঠোর ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে বুধবার (২৭ মে) অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইব্রাহিমি মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয় এবং প্রবেশমুখে মুসল্লিদের তল্লাশি করে। ভেতরে ঢুকতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক মুসল্লি অন্য মসজিদে চলে যেতে বাধ্য হন। নামাজে উপস্থিত মুসল্লির সংখ্যা মাত্র ৩০০ জনের মতো হওয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদের কাছে শব্দবোমা নিক্ষেপ করে, যা মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

হেব্রনের গভর্নর খালেদ দুদিন আনাদোলুকে জানান, ঈদুল আজহা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব, কিন্তু দখলদার বাহিনী ইব্রাহিমি মসজিদের ফটক বন্ধ করে দেয় এবং মুসল্লিদের লক্ষ্য করে শব্দবোমা নিক্ষেপ করে। তিনি জানান, এবারের ঈদের নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশের বেশি ছিল না। মসজিদের ভেতরের এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘সব ধরনের ধর্মীয় প্রতিস্থাপন এবং ধর্মীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ফিলিস্তিনে ঈদুল আজহায় নামাজে মুসল্লিরা

গভর্নর আরও বলেন, ‘চার হাজার বছরেরও বেশি পুরানো একটি ইসলামি ও ঐতিহাসিক নিদর্শনকে রক্ষা করতে ইব্রাহিমি মসজিদে অবিচল, স্থিতিস্থাপক এবং উপস্থিত থাকা আমাদের দায়িত্ব।’

এদিকে পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেথলেহেমের কেন্দ্রস্থলের ম্যাঙ্গার স্কয়ারে ফিলিস্তিনিরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।

নামাজের পর বেথলেহেমের মুফতি শেখ আব্দুল মজিদ আমারনাহ আনাদোলুকে বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহার বার্তা হলো শত্রুদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই জাতিকে উপড়ে ফেলা বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ফিলিস্তিনি জনগণ মহান ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের নীতি সত্ত্বেও তারা অবিচল থাকবে।’

ফিলিস্তিনে ইব্রাহিমি মসজিদ

আল্লাহর নির্দেশে নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নিজের পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার ত্যাগ ও প্রস্তুতির স্মৃতি স্মরণে প্রতি বছর মুসলমানরা এই ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। তবে এবারের ঈদুল আজহা এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুদ্ধ, অবরোধ এবং ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়ে পশ্চিম তীর ও গাজার হাজার হাজার ফিলিস্তিনি উৎসব পালন করছেন।

প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনী এবং দখলদারদের আক্রমণ তীব্র হয়। ফিলিস্তিনি সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় ১,২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, ১২,৬০০ জনেরও বেশি আহত করেছে এবং ৩৩,০০০ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।

ইত্তেফাক/এসএইচ