বরগুনায় নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে নেমে পরপর দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১৮:১৩

বরগুনার আমতলীতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সাটারিং খুলতে নেমে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আমতলী ফায়ার সার্ভিস।

বুধবার (৩ জুন) সকালে আমতলী একে স্কুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার হলদিয়া গ্রামের আজিজ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) ও  একই উপজেলার বেতমোর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে জাফর হাওলাদার(৫০)।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. ইউসুফ আলী একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে যান শ্রমিক জাহিদুল ও জাফর। প্রথমে জাহিদুল ট্যাংকের ভেতরে নামেন। নিচে নামার পরপরই তিনি চিৎকার শুরু করেন। বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাকে উদ্ধারের জন্য জাফরও ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান বলেন, সকালে জাহিদুল ইসলাম সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে নামেন। এ সময় তিনি চিৎকার দেন। তাকে রক্ষায় আরেক শ্রমিক ট্যাংকে নামলে তিনিও নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকালেই তারা নিস্তেজ ছিলেন।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক আবু হানিফ বলেন, শ্রমিকেরা অসাবধানতাবসত ট্যাংকে নেমে দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছেন। দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করে ট্যাংকের মুখ ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএসআর