গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২৬ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া। দিনের পর দিন পালিয়ে বেরিয়েছেন। ছয় বছর ছিলেন চাকরিচ্যুত। শুধু তিনি নন, তার বাবা-ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন অনেকের নামেই ডজন-ডজন মামলা হয়েছে।
এবার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, গোলাম কিবরিয়া ডিএসসিসির অঞ্চল-৭ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এবং মার্কেট নির্মাণ সেলের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে বিবেচিত হয়েছে।
এ কারণে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছে। বরখাস্তকালীন গোলাম কিবরিয়াকে ডিএসসিসির সচিব দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিএসসিসির সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্ত ঘিরে নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একপক্ষ বলছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে আরেকপক্ষের দাবি, এটি মূলত সংস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ের অংশ।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবন কেবল একটি সরকারি চাকরির গল্প নয়; বরং তা রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-মোকদ্দমা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসও বহন করে।
তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পল্টন থানায় ৮টি, রমনা থানায় ৮টি, শাহবাগ থানায় ৪টি, শ্যামপুর থানায় ২টি, ওয়ারী থানায় ২টি এবং যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি মামলা ছিল।
২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি টানা ৪ মাস ৬ দিন কারাগারে ছিলেন। শুধু তিনি নন, তার পরিবারের সদস্যরাও মামলার ভার বহন করেছেন।

