চেক জালিয়াতির মামলায় গণঅধিকার পরিষদ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪

চেক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা। বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার পর নগরীর রায়ানস হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান বলেন, “কুড়িগ্রামের একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন দায়রা মামলা নং-৩৮৪/২০২৪ (সূত্র: সি.আর.-৫৪/২০২৪)-এর রায় গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ ঘোষণা করেন বিচারক মোহাম্মদ নাজমুল হক।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ইয়াসিন আলী বাদীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। ওই অর্থ পরিশোধের জন্য তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের কুড়িগ্রাম শাখার একটি চেক প্রদান করেন। পরে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে সেটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে আইনগত নোটিশ পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ইয়াসিন আলীকে দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রায়ে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকে উল্লিখিত ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। পরে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে রংপুর মহানগর পুলিশের একটি দল বুধবার সন্ধ্যার পর নগরীর রায়ানস হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ওসি আজাদ রহমান বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

ইত্তেফাক/এএইচপি