ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি ‘বাস্তবায়নে সম্মত’

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১৩:২১

ইসরায়েল ও লেবানন সব ধরনের পারস্পরিক শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করতে চূড়ান্তভাবে সম্মত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান চতুর্মুখী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির আশাকে আরও জোরদার করেছে। 

বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি ও লেবানিজ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এক নিবিড় আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে।

প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতিটি মূলত ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র গোলাবর্ষণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লিটানি সেক্টরের সীমান্ত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সব সামরিক কর্মীকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার শর্তের ওপরও এই চুক্তিটি কঠোরভাবে নির্ভরশীল করা হয়েছে। 

অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও লেবাননের এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে হবে।

মূলত চলমান ইরান যুদ্ধের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের একটি সরাসরি অংশ হিসেবে গত ২ মার্চ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এই ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যখন লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাকে দমন করার জন্য ইসরায়েলি স্থলবাহিনী লেবানন সীমান্তে আক্রমণ শুরু করে। গত মাসেও এই দুই পক্ষ একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মাঠপর্যায়ে শত্রুতা ও রক্তক্ষয় থামেনি। 

এমনকি চুক্তি বাস্তবায়নের আলোচনার মধ্যেই বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ও বৈরুতের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়। অপরদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা শত্রুর একটি দূরনিয়ন্ত্রিত আকাশযান আকাশে বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে এবং সেটি সম্ভবত হিজবুল্লাহ ছুড়েছিল।

যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ইরান লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা পুরোপুরি বন্ধের জোর দাবি জানিয়ে আসছে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে বলছে যে এই দুই সংঘাত সম্পূর্ণ পৃথক ঘটনা। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক কঠোর বিবৃতিতে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতিটি হতে হবে সব রণাঙ্গনে একটি দ্ব্যর্থহীন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি। 

ইসরায়েল যদি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে পুনরায় হামলা চালায় তবে ইরান নিশ্চিতভাবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যে বিমান আঘাত হানার পর বুধবার কুয়েতে জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান, যাতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একজন নিহত ও ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইত্তেফাক/টিএইচ