সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, তার কারাবন্দি থাকা এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডাব্লিউ) পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের একজন সদস্য।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা জানান, পার্লামেন্ট সদস্য স্টিভেন লরেন্স এ বিষয়ে উচ্চকক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
বক্তব্যে স্টিভেন লরেন্স বলেন, ডাব্বো এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় নাগরিকরা তার কাছে ব্যারিস্টার সুমনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে একাধিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি। তার জামিন আবেদনগুলোও নাকচ হয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।
লরেন্স আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার, হেফাজতে নির্যাতন এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবে বন্দিদের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুমনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উদ্বিগ্ন। তাদের উদ্যোগে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করা হলে আদালত রুল জারি করেন। বিষয়টি বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
সুমনের আরেক আইনজীবী মোহাম্মদ খুররাম শাহ মুরাদ বলেন, “দিনের পর দিন বিনা বিচারে রাজনীতিবিদদের কারাগারে আটকে রাখা দেশের জন্য শুভকর নয়। ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আমরা মনে করি, তার বন্দিদশা বেআইনি।”
তবে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়নি।

