আমপ্রেমীদের কাছে গ্রীষ্ম মানে কেবল একটি ঋতু নয়, এটি একটি আবেগ। ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা আমের রসালো স্লাইস, আমরস কিংবা ম্যাঙ্গো শেক ছাড়া যেন গরমকাল জমেই না। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নানা জাতের আম উৎপাদিত হলেও লখনউয়ের কাছে ছোট্ট একটি শহর নিজের সুখ্যাতি দিয়ে তৈরি করেছে এক অনন্য ইতিহাস। শহরটিকে বলা হয় বিশ্বের ‘আমের রাজধানী’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
মালিহাবাদ, লখনউ
এই বিখ্যাত শহরের নাম ‘মালিয়াবাদ’। ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহর। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত আমের বাগান, সমৃদ্ধ কৃষিপদ্ধতি এবং বিশ্বখ্যাত ‘দশহরি’ আমের জন্য শহরটির নাম জড়িয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়।
অনিল ফার্মস আম জাদুঘর, গুজরাট
গুজরাটের গির জাতীয় উদ্যান থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে হিরণ নদীর তীরে সাড়ে ১২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই জাদুঘর। জারিয়া পরিবার কয়েক দশক ধরে এখানে ভারতসহ থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, ইউরোপ ও আমেরিকার ২৩০টিরও বেশি জাতের আম সংগ্রহ করেছে। এখানে এমন কিছু আম আছে যা দেখতে আপেল বা স্ট্রবেরির মতো, যাদের নাম ‘রেড আপেল ম্যাঙ্গো’ ও ‘স্ট্রবেরি ম্যাঙ্গো’। এছাড়া সিন্ধু-১১৭ নামের বীজহীন আম এবং বছরে একাধিকবার ফল দেওয়া বারোমাসি আমও রয়েছে এখানে।
আইসিএআর-সিআইএসএইচ আম জাদুঘর, লখনউ
আম নিয়ে কীভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও চাষাবাদ হয়, তা জানতে ২০২২ সালে লখনউতে এই আধুনিক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ জাদুঘরটি চালু করা হয়। এর সাতটি বিভাগে আমের ইতিহাস, বায়োটেকনোলজি, অর্গানিক চাষ ও হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়। তবে এর মূল আকর্ষণ ‘ম্যাঙ্গো গ্যালারি’, যেখানে ভারতের বিখ্যাত সব আমের মাটির মডেল রয়েছে।
কুরুভাক্কাভু, কেরালা
কেরালার কান্নুর জেলার এই ছোট্ট গ্রামটি বিরল দেশীয় আম সংরক্ষণে এক অনন্য নজির গড়েছে। কান্নুপুরম অঞ্চলে প্রায় ২০০ জাতের আম পাওয়া গেলেও এই ক্ষুদ্র গ্রামে চাষ হয় ১০০টিরও বেশি জাতের দেশীয় আম। এখানকার কোনও আম দেখতে গোলমরিচের মতো ছোট, কোনোটি আবার নারকেলের মতো বড়; কোনোটি তীব্র মিষ্টি, আবার কোনোটি তেঁতুলের মতো টক! ২০০ বছরের পুরোনো একটি প্রিয় মিষ্টি আমের গাছ কেটে ফেলার পর গ্রামবাসীদের মনে যে আঘাত লেগেছিল, তা থেকেই ২০টি পরিবার মিলে এই ঐতিহ্যবাহী আম সংরক্ষণের আন্দোলন শুরু করে।
প্রোফুড আম জাদুঘর, ফিলিপাইন
ফিলিপাইনের জাতীয় ফল আমকে উৎসর্গ করে মান্দাউই সিটিতে এটি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির বিখ্যাত রপ্তানি পণ্য ‘শুকনো আম’ তৈরির প্রক্রিয়া এখানে দেখানো হয়। ১৭ হেক্টরের এই বিশাল কারখানায় কীভাবে আম সংগ্রহ, স্লাইস, শুকানো এবং প্যাক করে বিশ্বজুড়ে পাঠানো হয়, পর্যটকেরা তা সরাসরি দেখতে পারেন।
গুইমারাস, ফিলিপাইন
ফিলিপাইনের এই দ্বীপ জেলাটি পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে মিষ্টি আম উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত। আমের মৌসুমে পুরো দ্বীপে রঙিন উৎসব ও মেলার আয়োজন করা হয়। এখানকার অদ্ভুত আকর্ষণ হলো আম দিয়ে তৈরি নানা খাবার; যেমন-আমের পিৎজা, আম বার্গার, ম্যাঙ্গো কেচাপ, পেস্ট্রি ও আইসক্রিম। পর্যটকেরা সরাসরি বাগান থেকে আম পেড়ে খাওয়ার সুযোগও পান এখানে।

