রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে বাসটি তোলা হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বাসটি নদী থেকে তোলা হয়।
দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাসটির চালক মো. ঝন্টু আলী (৪৭), যিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের মৃত মোসাব আলীর ছেলে। তিনি জানান, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে কুষ্টিয়া কাউন্টার থেকে ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে যাত্রী নামানোর পর গাড়িটি ঘাটের সংযোগ সড়কের দিকে নেওয়া হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রী নামিয়ে আমি এবং আমার হেলপার যখন গাড়ি নিয়ে সংযোগ সড়ক দিয়ে পন্টুনের দিকে আগাই তখন অল্প একটু যাওয়ার পরে আমি যখন গাড়ির ব্রেকে পা দেই, তখন দেখি গাড়ির ব্রেক হচ্ছে না। তখন আমি হেলপারকে বললাম গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না, তুই লাফ দে। তখন গাড়ির গতি আরও বেড়ে যায়। গাড়ি পন্টুনের ওপরে উঠে ব্যারিকেড ভেঙে গাড়িটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়।
চালক আরও জানান, নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় গাড়ির মধ্যে আমি একাই ছিলাম, কোনো যাত্রী ছিল না। হেলপার আগেই লাফ দিয়ে নেমে গিয়েছিল। বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে কিনারে আসলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপরে উঠেছি।
উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া ঘাটে এর আগেও অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ মার্চ ব্রেক ফেইলের কারণে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

