আগামী বাজেটে বরাদ্দকৃত প্রতিটি পয়সা জনগণের কাজে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটি নজরদারিতে রাখা হবে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা নজরদারিতে রাখব, আগামী বাজেটের যে অর্থ বরাদ্দ হবে, প্রতিটি পয়সা যেন জনগণের কাজেই ব্যবহৃত হয়। পরিসংখ্যাননির্ভর ও নামসর্বস্ব কোনো বাজেট আর আমরা দেখতে চাই না।’
শুক্রবার (৫ জুন) দলীয় কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ টু পয়েন্ট ও: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শিরোনামে ‘ছায়া বাজেট প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে এনসিপির ৭১ দফা বাজেট–ভাবনা তুলে ধরেন দলের ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির উপপ্রধান আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ ও জয়নাল আবেদীন শিশির।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কর্মসংস্থান কেমন হওয়া উচিত, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত, ব্যাংক খাতকে পরিবারকেন্দ্রিক, লুটপাট ও নির্দিষ্ট শ্রেণিকে উপকারভোগী করা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে কীভাবে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া যায় এবং একটি ব্যবসানির্ভর ও স্বনির্ভর ব্যাংক খাত করা যায়, সেটির একটি রূপরেখা, একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হলো এনসিপির ছায়া বাজেট।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে যে প্রক্রিয়ায় একজন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি দেশের অর্থনীতি পরবর্তী সময় কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে আশঙ্কাজনক একটি পরিস্থিতি উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের যে বিষয়গুলো নজরে পড়ছে, সেটিও অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রতিবছর ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। তিনি বলেন, ‘সে অর্থ কি অন্যান্য সোশ্যাল সেফটি নেটস (সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি) থেকে কাটা হবে কি না? যদি কাটা না হয়, তাহলে আগের সোশ্যাল সেফটি নেটসের আওতা বিদ্যমান রেখে কীভাবে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা প্রতিবছর সোর্সিং (সংস্থান) করা হবে, সেই প্রশ্নগুলো কিন্তু আমাদের সামনে আসছে।’
এনসিপি সমতাভিত্তিক অর্থনীতি নিশ্চিত করবে অঙ্গীকার করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের যে একটি অঙ্গীকারের সম্পর্ক, সে অঙ্গীকারের সম্পর্কটি আমরা নিশ্চিত করব। দায় ও দরদের ভিত্তিতে ভোক্তাদের স্বার্থ যেমন সংরক্ষণ করার আমরা অঙ্গীকার করছি, একই সঙ্গে যাঁরা উৎপাদক রয়েছেন, তাঁদের স্বার্থও সংরক্ষণ করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

