কুষ্টিয়া

মাছ চাষের জন্য ইজারা, লেক ভরাট করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ২০:৫৭

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ইজারা শর্ত লংঘন প্রাকৃতিক লেক ভরাট করে ব্যক্তি মালিকনায় নির্মাণ করা হচ্ছে আনন্দ-বিনোদন পার্ক। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে কলোনি সংলগ্ন ও রেস্ট হাউজের পেছনে ব্রিটিশ আমলের এই প্রাকৃতিক লেকটির সামনের বৃহৎ অংশ বালু ভরাট করে তড়িঘড়ি চলছে পার্ক নির্মাণের কাজ। শুধু মাছ চাষের জন্য লেকটির গ্রহীতা মানছে না ইজারার শর্ত।

ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিনষ্ট ও পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইজারা গ্রহীতার বিরুদ্ধে। এদিকে দিন-দুপুরে বালু ভরাটসহ তড়িঘড়ি পার্কের নানা স্থাপনা নির্মাণ শুরু হলেও কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা ভাবিয়ে তুলেছে এলাকাবাসীকে।

সরেজমিনে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৯.৬৯ একর আয়তনের লেক/জলাশয়টিতে সারা বছর পানি প্রবহমানসহ দেশি মাছ চাষের অভয়ারণ্য। প্রাকৃতিক এই জলাশয়টি ৫৫ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে তিন বছর মেয়াদে জনৈকা সালেহা খাতুন শুধু মাছ চাষের জন্য শর্ত সাপেক্ষে ইজারা পান। কিন্তু শর্ত উপেক্ষা করে লেকের সামনের বড় একটি অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে আনন্দ-বিনোদন পার্ক নির্মাণ শুরু করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে—সালেহা খাতুনকে ইজারা দেওয়া হলেও নেপথ্যে রয়েছে ধনী এক ব্যবসায়ীর অর্থায়ন ও প্রত্যক্ষ মদত। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নওদা ফারাকপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের ক্যালেনটিও সংকুচিত করে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

শুধু মাছ চাষের জন্যই লেকটি তিন বছরের মেয়াদে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত লংঘন করে পার্ক নির্মাণ কিংবা লেকের পরিবর্তন আনা সম্পূর্ণ বেআইনি
—মো. জাহেদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী 

সম্প্রতি লেকের ভরাটকৃত অংশে বিনোদনের জন্য বেশ কিছু রাইডসহ পানির ফোয়ারা, সুইমিং পুল স্থাপনের কাজ চলছে পুরোদমে। এছাড়া বাঁধ নির্মাণে লেকটিকে খণ্ড খণ্ড বিভক্ত ও খেয়াল-খুশিমতো খনন করে পানি প্রবাহ বন্ধসহ প্রমোদ ভ্রমণ ও আনন্দ-বিনোদনের যাবতীয় কার্যক্রমও চলমান। লেকটিতে স্থায়ী কোনো অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা পরিবর্তন আনা ইজারা শর্তাবলীর সুস্পষ্ট লংঘন।

ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, জিকে কলোনির পেছনের প্রাকৃতিক লেকটি ভরাট করে পার্ক স্থাপিত হলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। বৃহদায়তনের এই লেকটি রক্ষায় সরকারের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত জানান, লেক ভরাট করে পার্ক স্থাপনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, শুধু মাছ চাষের জন্যই লেকটি তিন বছরের মেয়াদে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত লংঘন করে পার্ক নির্মাণ কিংবা লেকের পরিবর্তন আনা সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগটি তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে হলে লিজ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস