সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি ছিল আজারবাইজান

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০২:০৬

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত চলাকালে ইসরায়েল অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আজারবাইজানের ভূখণ্ডে নিজেদের বিশেষ কমান্ডো ও গোয়েন্দা দল মোতায়েন করেছিল বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের যে গোপন সামরিক স্থাপনার নেটওয়ার্ক রয়েছে, আজারবাইজান ছিল তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ইরানের উত্তর সীমান্তে নজরদারি চালানো এবং সামরিক অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থেই এই দেশটিকে বেছে নিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি বিশ্বস্ত সূত্র সিএনএনকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের উত্তর সীমান্তের খুব কাছে কয়েকটি কৌশলগত অবস্থানে ইসরায়েলের এই বিশেষ দলগুলো কাজ করত। এর মধ্যে সবচেয়ে কাছের অবস্থানটি ছিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর তাবরিজ থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে। উল্লেখ্য যে, যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এই তাবরিজ শহরে একাধিক হামলা চালিয়েছিল। সেখানে ইসরায়েলের স্পেশাল কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, যারা মূলত ড্রোনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ইরানের অভ্যন্তরে আড়িপাতার মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করত। আজারবাইজানে এই গোপন সেনা মোতায়েনের ফলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এমন অনেক ভৌগোলিক সুবিধা পেয়েছিল, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে, তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরায়েল প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডকে সুকৌশলে ব্যবহার করেছে।

আজারবাইজান ছাড়াও ইসরায়েল ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও গোপন সামরিক স্থাপনা তৈরি করেছিল। প্রাথমিকভাবে এসব স্থাপনায় উদ্ধারকারী দল রাখার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে সেগুলোর কাজের পরিধি বাড়িয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণ, পশ্চিম এবং উত্তর সীমানার খুব কাছাকাছি অবস্থান নিতে সক্ষম হয়, যা তাদের সামরিক ক্ষমতাকে কয়েক শ মাইল প্রসারিত করে। বিশেষ করে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের বন্দরনগরী বারবেরায় ইসরায়েলের উপস্থিতির কারণে দূরপাল্লার বিমান হামলার সময় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সেখানে যাত্রা বিরতির সুযোগ পেয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই সেনা মোতায়েনের খবরটি আজারবাইজান সরকার দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে তাদের দেশে ইসরায়েলি ঘাঁটির উপস্থিতির খবর অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর আগে ইরাক ও আমিরাতে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

আজারবাইজান ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই গভীর সম্পর্ক মূলত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা খাতের পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজারবাইজান ইসরায়েলের তেলের একটি বড় জোগানদাতা দেশ এবং বিনিময়ে তারা ইসরায়েল থেকে আয়রন ডোমসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র ক্রয় করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই কৌশলগত সম্পর্কের কারণে আজারবাইজান ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের রাজনৈতিক প্রভাবকেও কাজে লাগানোর সুযোগ পায়। সব মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আজারবাইজানকে একটি অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে ইসরায়েল।

ইত্তেফাক/এএম