জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির ২টি সহজ দোয়া

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫

দোয়া ও প্রার্থনা স্বতন্ত্র্য একটি ইবাদত। হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া না করলে, আল্লাহ অপছন্দ করেন। দোয়ার মাধ্যমে সহজেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। যেকোনো বিপদ ও সমস্যায় সমাধান পাওয়া যায়। তাই সব বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার বিকল্প নেই। কারণ, তিনি একমাত্র সাহায্যকারী ও সমাধানদাতা।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন: 

তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে এবং লাঞ্ছিত হবে। ( সুরা মুমিনুন: ২)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। যদি সে তাড়াহুড়া না করে, আর বলে যে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না।’ (বুখারি: ৬৩৪০)
 
মহান আল্লাহ তার নবীজির মাধ্যমে বান্দাদের এমন কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, যা খুব সহজে আমল করা যায়, অথচ এগুলোর ফজিলত অনেক বেশি। এগুলো এমনই দোয়া, যা পড়লে জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায়।
 
হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে, তার জন্যে জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে।

رَضيتُ بالله رَبّاً ، وبالإسلامِ ديناً ، وبمحمَدٍ نَبِيًّا وَّرَسولاً (উচ্চারণ: রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউ ওয়া বিল ইসলামি দ্বিনাউ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যাও ওয়া রসুলা।) 

১. যে দোয়ায় জান্নাত ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়ে যায়

হাদিসে এমন একটি চমৎকার দোয়ার কথা এসেছে, যা পাঠ করলে বান্দার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। দোয়াটি হলো: ‘রাদীতু বিল্লাহি রাব্বাঁও, ওয়া বিল-ইসলামী দীনাঁও, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসুলা।’ অর্থ: আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।

হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক বা ওয়াজিব হয়ে যাবে। (আবু দাউদ: ১৫২৯)

হজরত মুনাইজির (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি—যে ব্যক্তি সকালে এই দোয়া পড়বে, কেয়ামতের দিন তাকে হাত ধরে জান্নাতে পৌঁছে দেওয়ার জিম্মাদার স্বয়ং আমি।’ (মুজামুল কাবির)

হজরত সাওবান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির নেকি বৃদ্ধির মাধ্যমে তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি)

২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত প্রার্থনার হাদিসে বর্ণিত একটি সহজ দোয়া

জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত প্রার্থনার জন্য হাদিসে বর্ণিত অত্যন্ত সহজ ও সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া হলো: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আস-আলুকাল জান্নাতা, ওয়া আউজু বিকার মিনান-নার।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাচ্ছি এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুনানে আবু দাউদ)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো বান্দা যদি দিনে বা সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার এই দোয়া পড়ে, তবে জাহান্নাম আল্লাহর কাছে বলে-‘হে রব, আপনার অমুক বান্দা আমার থেকে আশ্রয় চেয়েছে, তাকে আশ্রয় দিন।’ আর জান্নাত বলে-‘হে প্রতিপালক, আপনার অমুক বান্দা আমার প্রার্থনা করেছে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।’ (মুসনাদে আবু ইআলা)

আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কেউ জান্নাতের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে তিনবার প্রার্থনা করলে জান্নাত বলে, হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। কেউ তিনবার জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাইলে জাহান্নাম বলে, হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। (সুনানে তিরমিজি)

 
ইত্তেফাক/এনটিএম