তীব্র সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলো ফিফা 

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১৩:২৫

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখতে আসা দর্শকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ফিফা। তবে সমর্থক গোষ্ঠী ও শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিতে পারবেন ভক্তরা।  

শুক্রবার (৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফিফা নতুন এই নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছে। পোস্টে বলা হয়, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের যেকোনো ম্যাচে সব সমর্থক একটি করে নরম প্লাস্টিকের, ৫৯০ মিলি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন, ফ্যাক্টরি-সিলড ওয়ানটাইম পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে ঢোকার অনুমতি পাবেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কারণে সমর্থকেরা শক্ত প্লাস্টিক বা ধাতব তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

ফিফার মূল স্টেডিয়াম বিধিমালায় প্রথমে বলা হয়েছিল, ‘কোনো দ্বিধা ছাড়াই দর্শকেরা স্টেডিয়ামের ভেতরে সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।’ কিন্তু গত মঙ্গলবার নথির একটি হালনাগাদ সংস্করণে বলা হয়, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামের ভেতরে আনা যাবে না।’

সেই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলোয়াড়, রেফারি, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলোয়াড় ও দর্শকদের যেকোনো ধরনের ঝুঁকি ও চোট থেকে রক্ষা করতেই বোতল নিষিদ্ধ করার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার অনেক শহরেই তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পানির বোতল নিষিদ্ধ করার এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি চারদিক থেকে চরমভাবে সমালোচিত হয়। 

ইংলিশ সমর্থক গোষ্ঠী ‘দ্য ফ্রি লায়ন্স’ এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হচ্ছে—এটি আসলে টাকা হাতানোর আরেকটি নতুন ফন্দি।’

স্টেডিয়ামে বোতল নিষিদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে বলেন, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ, আমরা যে প্রচণ্ড গরমের কথা বলছি, তা শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, দর্শকেরাও কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রচণ্ড গরমের মুখোমুখি হবেন।’

 

ইত্তেফাক/জেডএইচ