আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসলে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে ‘বিপাকে’ আইনজীবী

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৯

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ কে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের জার্সি পরে মক্কেলদের আইনি ফিতে ৫০ শতাংশ বিশেষ ছাড়ের অফার দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন আইনজীবী মিঠুন শাহা। অভিনব এই বাণিজ্যিক প্রচারণা ও আচরণকে পেশাগত শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থী উল্লেখ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ওই আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে।

একই সঙ্গে এই শোকজ নোটিশ পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তার ওকালতি বা আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে না, সে বিষয়ে বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনালের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারের বিশেষ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই কড়া শোকজ নোটিশটি আইনজীবী মিঠুন শাহার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়।

আইনজীবী মিঠুন শাহাকে পাঠানো বার কাউন্সিলের ওই অফিশিয়াল নোটিশে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য সংবাদ এবং সংযুক্ত স্থিরচিত্রে দেখা গেছে যে, আপনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট পেশাগত পোশাকের (কালো কোট ও গাউন) পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রাষ্ট্র আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে নিজস্ব চেম্বারে বা অফিসে বসে মক্কেলদের সরাসরি আইনি সেবা প্রদান করছেন। একই সঙ্গে আপনি আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি পরে আইনি পরামর্শ নিতে আসলেই আইনি ফি অর্ধেক বা ৫০% নেওয়ার একটি বিশেষ বাণিজ্যিক অফার ঘোষণা করেছেন। আপনার এমন সস্তা প্রচারণা ও আচরণ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত ঐতিহাসিক ‘ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড ইটিকেটি’ এর সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন।

বিশেষত, আইনজীবীর পেশাগত আচরণ সর্বদা সর্বোচ্চ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে এবং দেশের পবিত্র আইনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক অফার, ডিসকাউন্ট বা ডিজিটাল প্রচারণা চালানো আইনজীবীদের মূল নীতি, মর্যাদা ও মহান পেশার আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’

বার কাউন্সিলের শোকজ নোটিশে আরও গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘আইনজীবী মিঠুন শাহার এ ধরনের খামখেয়ালি কর্মকাণ্ড সমগ্র আইনজীবী সমাজের পেশাগত ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণের মনে আইনজীবীদের পেশাদারিত্ব নিয়ে গভীর আস্থা নষ্ট করেছে। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেসেঞ্জারের মতো ব্যক্তিগত যোগাযোগমাধ্যমে ইতোপূর্বে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বিজ্ঞ চেয়ারম্যান মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে এই বিষয়ে বারবার ও একাধিকবার সতর্ক করার পরও আপনি বার কাউন্সিলের সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে এহেন কর্মকাণ্ড অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।’

এই অবস্থায় বার কাউন্সিলের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করার মতো কর্মকাণ্ড চলমান রাখায় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইনজীবী মিঠুন শাহার ওকালতি সনদ অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বার কাউন্সিল সচিবালয়ে তার সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম