এআই ব্যবহার প্রসঙ্গে এ কে আজাদ

‘আমার ১০ হাজার লোকের টার্গেট এখন আমি কমাবো’

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কর্মী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। তিনি বলেন, বর্তমানে ৭৫ হাজার কর্মী থাকলেও ভবিষ্যতে ১০ হাজার কর্মী কমানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

রবিবার (৭ জুন) এক বেসরকারি গণমাধ্যমে ‘একাত্তর বিজনেস’ নামক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। 

এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও শিল্পখাত দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হয়ে উঠছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেই গতিতে এগোতে পারছে না। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াতে রাজি নন। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনবল কমানোর বিকল্প দেখছেন না উদ্যোক্তারা।

তিনি জানান, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী রয়েছেন। এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ১০ হাজার কর্মী কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, যেসব কর্মী চাকরি হারাবেন তারা দক্ষ জনশক্তি। ফলে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য বাজেটে দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

এ কে আজাদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার এবং দক্ষতা সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান চাপে রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যমানের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না। ফলে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু পোশাক শিল্প নয়, অন্যান্য খাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। অন্যথায় শিল্পখাতের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য ঋণের সুদহার কমানোরও দাবি জানান তিনি। এ কে আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ব্যবসায়ীরা বারবার সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ সুদে শিল্পকারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই সঙ্গে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করতে হবে, কারণ জাতীয় অর্থনীতির বড় অংশই অভ্যন্তরীণ চাহিদানির্ভর।

 
ইত্তেফাক /এসএ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন