ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি দিয়েছে যে লোহিত সাগরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আবারও তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হবে।
সোমবার (৮ জুন) হুথিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সংগঠনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে এই ঘোষণা দেন। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান বিমান হামলার কারণে গত আট এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি যখন চরম হুমকির মুখে, ঠিক তখনই হুথিদের এই নতুন উসকানি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।
হুথিদের নতুন এই হুমকির ফলে লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং এই দুই জলপথকে যুক্ত করা সংকীর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ল। এর আগে গাজা যুদ্ধ চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগরে একশরও বেশি হামলা চালিয়ে অন্তত নয়জন নাবিককে হত্যা করেছিল এবং চারটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। সেসব হামলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল, যেখান দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি বছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আনা নেওয়া করা হতো।
হুথিরা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত থেকে দূরে ছিল এবং ইয়েমেনকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনাকে প্রাধান্য দিচ্ছিল। তবে চলমান উত্তেজনার মাঝে হুথিরা এবার ইসরায়েলের জাফা শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
ইয়েমেনের হুথি নেতৃত্ব, যা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি শত্রুদের জন্য সামুদ্রিক নেভিগেশন সম্পূর্ণ এবং পরমভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এই বিবৃতি প্রকাশের পর থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো চলাচল আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে’। তারা আরও স্পষ্ট করেছে যে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং তাদের এই সামরিক অভিযান প্রতিরোধ অক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন যে বাব আল-মানদাব প্রণালির বর্তমান নিরাপত্তা দেখে শত্রুদের কোনো ভুল হিসাব করা উচিত হবে না, কারণ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দুটি জলপথই বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালি একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেলে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে বিশ্ব কূটনীতিকদের সঙ্গে রাতভর যোগাযোগ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত ফোনালাপ করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

