‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার’ পুনরায় সংজ্ঞায়ন দরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ২৩:২৮

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও নিয়ন্ত্রণে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান নতুন আইনে যুক্ত করা হবে।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

হেলেন জেরিন খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট ও পেজ পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এআই প্রযুক্তি দিয়ে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের প্রধান, তার স্ত্রী ও কন্যাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পরিবারকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার নামে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেটা আসলেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি না, সেটা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা দরকার।’

মন্ত্রী জানান, সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ‘আজকে সকালেই এ বিষয়ে আমি একটা আইনি সংস্কার করার জন্য ড্রাফটে হাত দিয়েছি। আমি জানতাম না আজকে এই প্রশ্নটা এখানে আসবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার এবং এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা মোকাবিলায় সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনটি ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ নামে উপস্থাপন করা হবে এবং এর কয়েকটি বিধান সংশোধন করা হবে।

তিনি আরও জানান, গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে এবং এসব কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার প্রতিরোধে শাস্তির নতুন বিধান যুক্ত করা হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আইনে এমন কোনো বিধান নেই, যার মাধ্যমে মেটাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করা যায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে তারা আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে এমন বিধান করেছে, মেটাকে ২৪ ঘণ্টায় অ্যাকশন নিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু আমাদের বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনে সেই বিধানটা নাই।’

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমা নির্ধারণ করে কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট সরানোর প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার বিধান রাখা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সাইবার সুরক্ষা সংস্থা ও বিটিআরসিসহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন