বাজেট ২০২৬–২৭

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ থাকছে কত টাকা?

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৭:৪৪

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকরের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করতে জুন মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

সূত্র জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রস্তাবিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। পরের অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ যুক্ত করা হবে এবং ২০২৮–২৯ অর্থবছর থেকে পূর্ণ বেতন–ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে তিনি নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেন বলে জানা গেছে।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন–ভাতায় বরাদ্দ রয়েছে ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাবে, সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যার ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন গত জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ জমা দেয়।

পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিটি তিন ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে, যা অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে চূড়ান্তভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

কমিশনের সুপারিশে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বৃদ্ধি সুপারিশ করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনধারীরা প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, ২০–৪০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনধারীরা ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারেন। এছাড়া বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতিতে একসঙ্গে পুরো বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন কঠিন হলেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

 
ইত্তেফাক/এসজেএস