স্বর্ণের ভরিতে ভ্যাট কমছে ৭৮ শতাংশ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ২০:২৯

দেশে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় বর্তমানে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হয়। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে কমানো হচ্ছে উৎসে করও।

দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি সোনার দাম প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এ দামে সোনা কিনলে ৫ শতাংশ হারে প্রতি ভরিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রতি ভরিতে ভ্যাট হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এতে ভ্যাটের পরিমাণ কমবে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বেসরকারি একটি গণমা্মাধ্যমকে জানান, বর্তমানে এ খাত থেকে ১৫০ কোটি টাকার কম ভ্যাট আদায় হয়। নির্ধারিত ভ্যাট আরোপ করা হলে আদায় বেড়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে। ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছেন। ফলে নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট চালু হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই উপকৃত হবে।

সূত্র জানায়, শুরুতে প্রতি ভরিতে পাঁচ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করা হচ্ছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সোনা বেচাকেনা থেকে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ১৩৮ কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি দোকান রয়েছে।

ভ্যাটের পাশাপাশি স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে করও কমানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের চিঠি
বাজেট সামনে রেখে এনবিআরের সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্দিষ্ট অঙ্কের বা ফিক্সড ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দেয়। পরে গত ১৩ মে একই দাবি জানিয়ে সংগঠনটি অর্থমন্ত্রীকে চিঠি পাঠায়।

বাজুসের চিঠিতে বলা হয়, নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট আরোপ করা হলে এ খাত থেকে বছরে ৪০০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা সম্ভব। দেশে ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত ভ্যাট দেয় দেড় হাজারটি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ন্যূনতম ভ্যাট আরোপ করা হলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আসবে। ভ্যাট নেট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভরিপ্রতি ২ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল বাজুস।

ইত্তেফাক/এসএইচ