দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ২১:৩৮

ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ব্যাংকটি দখলের সময় যে যাতনা বা পন্থায় তা হয়েছিল, এখন তা বেদখল হওয়ার সময় সেই একই যাতনা অনুভূত হওয়াটাই স্বাভাবিক মাননীয় স্পিকার। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি ব্যাংকটির অনিয়ম ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী ইসলামী ব্যাংকের অনিয়মের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আরডিএস নামক ব্যাংকটির ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পে নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হলেও সেই টাকা ফেরত আসেনি এবং এই অর্থ কোনো একটি দলের নির্বাচনী তহবিলে যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নাবিল গ্রুপের ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দায়ের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

নিয়ম ভেঙে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ৬ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ১৩ হাজার কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক পদোন্নতি দেওয়া এবং সিএসআরের নামে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যাংক থেকে নির্বাহ করার মতো অনিয়মগুলোর তদন্ত হবে বলে তিনি জানান।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্যাংকের ৮১ শতাংশ শেয়ার বর্তমানে একটি গ্রুপের হাতে। তিনি ঘোষণা দেন যে, সব শেয়ারহোল্ডারের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হবে এবং বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা লক্ষ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগসহ বিদেশে অর্থ পাচারের প্রতিটি ঘটনার বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে তদন্ত করা হবে।

ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বা কোনো তদন্ত চলমান নেই। তবে নতুন কোনো অভিযোগ এলে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর বক্তব্য ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

ইত্তেফাক/এএম