বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ইরানের হামলা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৩

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন ও আশঙ্কাজনক মোড় নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে এবার বাহরাইনে অবস্থিত আমেরিকার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। 

একই সঙ্গে ইরান হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও সর্বাত্মক পাল্টা আঘাত হানা হবে। বুধবার (১০ জুন)  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে এই সফল ড্রোন হামলা চালানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে। আইআরজিসি তাদের কড়া ভাষার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে দুই পক্ষের মধ্যে এই সামরিক সংঘর্ষ এখনো চলমান রয়েছে। আমেরিকার যেকোনো ধরনের নতুন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুভ হবে না।

বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন বিমানবাহিনী দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে রাতভর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার এই বর্বরোচিত বিমান হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ বেসামরিক মানুষের ব্যবহারের দুটি পানির ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এই ঘটনার পরপরই ইরান পাল্টা আঘাত হানলে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয় এবং বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের দেশের সাধারণ জনগণকে শান্ত থেকে নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

তেহরান থেকে আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিটি ছিল মূলত সাধারণ সতর্কবার্তা। তবে আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর উভয় সামরিক বিভাগই নিশ্চিত করেছে যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। 

তবে বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে কেবল বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটির কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিযানে ঠিক কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোনো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সামরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের অপর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে ঠুনকো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে দক্ষিণ ইরানে আমেরিকা যে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে, তার মোক্ষম জবাব দিতেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি যৌথভাবে এই শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। 

যৌথ কমান্ডের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে খুব ভালো করে বুঝতে হবে যে তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কোনো ধরনের ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নির্ধারিত সকল লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র, নিখুঁত ও ব্যাপক আকারে হামলা চালানো হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ