পশ্চিম তীরে সহিংসতা

ইসরায়েলের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যসহ ৬ দেশের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৬:৩৩

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ছড়ানোর দায়ে এবার ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের নেটওয়ার্কের ওপর চড়াও হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। এই সহিংসতায় অর্থায়ন, সহায়তা ও সরাসরি হামলা পরিচালনাকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (৯ জুন) একযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স এবং নরওয়ে।

এর আগে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে মোট ছয়টি দেশ এখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নেটওয়ার্ক, অর্থায়নকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চরম সহিংসতার জন্য দায়ী কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য। তারা ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, তার দেশ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, কয়েকজন বসতি নেতা এবং ২১ জন সহিংস বসতি স্থাপনকারীকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ করেছে।  

যুক্তরাজ্য লক্ষ্য করেছে মূলত অর্থের প্রবাহ বন্ধ করতে। তারা এমন একটি নির্মাণ কোম্পানিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যাদের সম্পদ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডা আলাদা একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিম তীরে এই সহিংসতা আসলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করার একটি কৌশল। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে অধিকৃত এলাকায় লাখ লাখ ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ বলে বিবেচিত হয়।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, যেসব দেশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা নিজ দেশে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা সেই বিদ্বেষকে আরও উসকে দিচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ভাবে ইসরায়েলেরে বসতি স্থাপনের অধিকার নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা। পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গান্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের পার্লামেন্টের উচিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করা এবং পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

যদিও ইসরায়েল সরকার মাঝেমধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা করে, তবে বিদেশি নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তারা সবসময়ই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

যৌথ বিবৃতিতে ছয় দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসরায়েল যদি মাঠপর্যায়ে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স 

ইত্তেফাক/এবিএস