দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে শূন্য পদ ৯ হাজার ৪০৭টি। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৫০১টি পদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২টি এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ২৬ হাজার ৫৪৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮৪টি পদ শূন্য রয়েছে।
যশোর-৪ আসনের গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, সারা দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩ হাজার ২১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে ৭ হাজার ৪২৯ জন। পদ শূন্য রয়েছে ৫ হাজার ৭৮২টি। নার্সের ১৩ হাজার ৮০৯টি পদের মধ্যে ১২ হাজার ১৪৬ জন কর্মরত আছেন। নার্সের শূন্য পদ ১ হাজার ৬৬৩টি। অন্য কর্মচারীদের ৩ হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২ হাজার ১২০ জন। শূন্য পদ ১ হাজার ৬৬টি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সারা দেশের ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের ১ হাজার ১৩৪টি পদের মধ্যে ৬৪৪ জন কর্মরত এবং ৬৭০টি পদ শূন্য রয়েছে। মিডওয়াইফের ১ হাজার ৩১২টি পদের মধ্যে কর্মরত ৭৪৬ জন এবং শূন্য পদ ৪৬৬টি। অন্য কর্মচারীদের ২ হাজার ৬২৭টি পদের মধ্যে কর্মরত ১ হাজার ৬৮২ জন এবং শূন্য পদ ৯১৫টি। সারা দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের ৩ হাজার ১৬৭টি পদের মধ্যে শূন্য পদ ১ হাজার ৭০৭টি। স্যাকমো ৩ হাজার ১৬৫টি পদের মধ্যে কর্মরত ১ হাজার ৬৪৫ জন এবং শূন্য পদ ১ হাজার ৫২০টি।
সারা দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু
সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বছরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
নিলোফার চৌধুরীর এক প্রশ্নে জানতে চান, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোলট্রি ও ফিশ ফিড ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেবে কি না।
এর জবাব দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য’ উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত চামড়ার বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকে।

