তৃণমূলের তীব্র ভাঙনের মুখে কংগ্রেসের হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত

মমতাকে জাতীয় সহ-সভাপতি ও অভিষেককে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব!

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ২১:৫৬

তীব্র অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের জেরে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস যখন চরম অস্তিত্ব সংকটে, ঠিক তখনই দলটির সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সূত্রের খবর, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিপরীতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতার পদ এবং তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য শীর্ষ পদের দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই রাজনৈতিক একত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। প্রস্তাবিত শর্তানুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের ‘জাতীয় সহ-সভাপতি’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জাতীয় সাধারণ সম্পাদক’ পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এক সপ্তাহে তছনছ তৃণমূল

গত এক সপ্তাহে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির ২৯ জন লোকসভা এমপির মধ্যে ২০ জনই প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দল ত্যাগ করেছেন। তাঁরা মূল দল থেকে বেরিয়ে একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠন করেছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।

একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রায় ৬৪ জন বিধায়ক একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় দলের মধ্যকার চরম ফাটল প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

কংগ্রেসের দ্বিমুখী কৌশল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস একটি দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে। তৃণমূলের অবশিষ্টাংশকে নিজেদের দলে টেনে নিতে পারলে সংসদীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। এর ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা দলটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

পুরোনো ঘরে ফেরার ইঙ্গিত?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল একজন ছাত্রনেতা হিসেবে। আশির দশকে যোগমায়া দেবী কলেজে পড়ার সময় তিনি এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) অনুমোদিত অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনকে পরাজিত করে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র পরিষদ’ ইউনিয়ন গঠন করেন।

এরপর জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের হয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ১৯৯১ সালে পি ভি নরসিমা রাওয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারে তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন, যুব ও ক্রীড়া এবং মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে, ১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কংগ্রেসের একাংশ ভেঙে বেরিয়ে এসে জন্ম নেয় আজকের ‘তৃণমূল কংগ্রেস’। ফলে এই একত্রীকরণ সম্পন্ন হলে তা হবে মমতার পুরোনো ঘরে ফেরার মতোই একটি ঘটনা।

অস্পষ্টতা এখনও কাটেনি

এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক দলবদল এবং একত্রীকরণের শর্তাবলীর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের হাই কম্যান্ড কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এই গুঞ্জন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএম