যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানতে পারে এমন সুনির্দিষ্ট হুমকিতে বাহরাইন এবং কুয়েতে নতুন করে হামলার সতর্কবার্তা বা সাইরেন বেজে উঠেছে। ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বড় ঝুঁকিতে থাকা এই দেশগুলোতে মধ্যরাতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে সম্পূর্ণ শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে অনতিবিলম্বে তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা নিরাপদ আশ্রয়স্থলে চলে যাওয়ার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে তারা দেশটির আকাশসীমায় মার্কিন ঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং শক্তিশালী ড্রোন হামলা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে। কুয়েত আর্মি দেশের বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ জনগণকে যেকোনো ধরনের আতঙ্ক এড়াতে এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সমস্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।
মূলত গত রাতে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমান বাহিনীর সর্বাত্মক বোমাবর্ষণের পর পরই পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এই নতুন পাল্টা হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে ওয়াশিংটনের সেই হামলার সরাসরি জবাব দিতেই ইরান এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের এই মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
সূত্র: আল জাজিরা

